
মাদারীপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু, গুরুত্ব পাচ্ছে দরিদ্র পরিবার
নাসির উদ্দিন নাহিদ তালুকদার
নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (১২ অক্টোবর) মাদারীপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহবিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স মাদারীপুর
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
এ কর্মসূচির আয়োজন করে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়। পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্ব জয়’—এ ধরনের পৃথক কর্মসূচির পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এর অংশ হিসেবে পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮ টি বিভাগের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ পর্যায়ে প্রাথমিক মিস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে প্রদানের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।
কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত উপযুক্ত পরিবারকে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী খানা ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে।
সরকারের প্রত্যাশা, তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগী পরিবার চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সহায়তা আরও সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।