শিবচরে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি - ১
নিজস্ব প্রতিবেদক
পূর্ব শত্রুতার জেরে মাদারীপুর শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি গ্রামের আবুল হোসেন বেপারীর পুত্র আরাফাত বেপারী (৩২)- কে রাতের আঁধারে কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করলো প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা। আহত আরাফাত বেপারীর স্ত্রী আফরোজা আক্তার তার কাছ থেকে জানা যায় দৈনন্দিন কাজ শেষে রাত ৮:৩০ টার দিকে শিবচর থেকে নিজ বাড়ী বাঁশকান্দিতে ফিরছিলেন তার স্বামী আরাফাত বয়াতি। পথিমধ্যে উমেদপুর ইউনিয়নের বক্কার মুন্সীর বাড়ীর কাছে পৌঁছালে উতপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার উপর দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বাঁশকান্দি গ্রামের লাল মিয়া ফকিরের পুত্র নান্নু ফকির ওরফে নুন্নু ফকির (৩০) ও তার পালিত সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আরাফাত বেপারীকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তার হাত-পা, মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে রাস্তায় ফেলে রেখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়,এসময় আরাফাত বেপারীর চাচা দেলোয়ার বেপারী তাকে উদ্ধার করে ১০০ শয্যা বৈশিষ্ট্য শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান, হাসপাতালে ভর্তি আহত আরাফাত বেপারীর স্ত্রী আফরোজা আক্তার,ও প্রতিবেশী চাচা দেলোয়ার বেপারী সহ আরো অনেকে সাংবাদিকদের বলেন ঘটনার সময় আহত আরাফাত বয়াতির আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাকে ফেলে রেখে তারা উক্ত এলাকা দ্রুত ত্যাগ করে এবং সামনে তাকে আরো বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি ও হত্যার হুমকি প্রদান করে।
এ ব্যাপারে আরাফাত বয়াতির স্ত্রী সাংবাদিকদের এক ভিডিও বক্তব্যে বলেন নান্নু ফকির, রুবেল ফকির ও তার দলবলের লোকেরা এলাকার অত্যন্ত বেপরোয়া, প্রভাবশালী সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষ । নান্নু ফকির বাঁশকান্দি ৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সে উত্তর বাঁশকান্দি গ্রামের রিয়াদ বয়াতির ১০ বছরের শিশু পুত্রকে গাছের সাথে বেঁধে অকারণে শারিরীক নির্যাতন করেছে, আর তার ছেলে রুবেল ফকির বাঁশকান্দি গ্রামের আঃ রাজ্জাক মাদবর ও করিম মাদবরের মেয়েকে ই ফটিজিং ও উত্যক্ত করে বলেও জানা গেছে। অনেক মেয়েদের উত্যক্ত করলেও অভিভাকরা তার বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয়ে মুখ খুলেন না, মারামারি, চাঁদাবাজী মাদক, ভূমিদস্যুতা তাদের নিত্য-নৈমত্তিক কাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত এলাকার অনেকেই বলেন, তাদের কাজে কেউ একমত না হলে, বাঁধা সৃষ্টি করলে তারা এই জাতীয় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায়। এমন পরিস্থিতিতে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও কঠোর বিচার দাবি করেছেন।
শিবচর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামাল হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে৷
উক্ত ঘটনায় এলাকায় উভয়পক্ষে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং যে কোনো সময় আরো বড় ধরণের ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবার।