মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালি ইউনিয়নের ৯৫ বছর বয়সের আলেকজান বেগম তার স্বামীর পৈত্রিক ভিটা না পাওয়ায় সংবাদ সম্মেলন।
নিজস্ব প্রতিবেদক,
মাদরীপুরে স্বামীর রেখে যাওয়া পৈতিক বসত ভিটা বাড়ির ওরিসের অংশ ফিরে পেতে ৯৫ বছর বয়সেও ন্যায়–বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মাদারীপুরের দুধখালীর বড় কান্দি এলাকার আলেকজান বেগম। স্বামী মৃত হামেদ হাওলাদারের মৃত্যুর পর তার স্বামীর অংশ দাবি করায় তাকে তার স্বামীর আপন ভাইরা মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর আপন ভাইদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আলেকজান বেগম অভিযোগ করেন,জীবিত থাকার অবস্থায় হামেদ হাওলাদার জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন মাদারীপুর সদরে বসবাস করেন, তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সন্তানরা বাড়ির অংশ ভোগদখল করতে গেলে মৃত হামেদ হাওলাদারের আপন ভাই ইসরাফিল হাওলাদার, ইব্রাহিম হাওলাদার, ইমারত হাওলাদার, রহমান হাওলাদার ও শাজাহান হাওলাদার তাকে বাধা দেন এবং মৃত হামিদ হাওলাদারের পৈত্রিক গিটার উপরে জোরপূর্বক ঘরবাড়ি নির্মাণ শুরু করেন।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে প্রহার করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, জায়গা না দিলে বিভিন্ন ধরনের হুমকিধমকিও দেওয়া হয়।
আলেকজান বেগম আরও জানান, তার স্বামীর স্থাবর সম্পত্তির সব কাগজপত্র হালনাগাদ রয়েছে এবং আদালতে মামলার রায়ে তিনি ন্যায্য অংশ পাওয়ার অধিকারী বলে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু রায় বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দুধখালী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহিননের কাছে গেলে তারা কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকবার দখলদারদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলেও প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর তারা আবার নির্মাণ কাজ শুরু করে।
৯৫ বছর বয়সী এই নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “কোর্টের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে আমার জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমার স্বামীর জায়গা ফেরত চাই এবং মরার আগে স্বামীর ভিটা বাড়িতে উঠতে চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন অবিলম্বে আদালতের রায় বাস্তবায়ন ও দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।