মাদারীপুরে কৃষি জমি নষ্ট করে ও প্রকাশ্যে কাঠ পুরিয়ে চলছে অবৈধ ইটভাটা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদারীপুর জেলায় সর্বমোট ৯১টি ইটভাটা রয়েছে তবে নেই কোন পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র,নবায়নের জন্য হাতে গোনা কয়েকটি আবেদন করলেও, দেওয়া হয়নি কোনো নবায়ন। কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে- আইনকে বৃদ্ধ আঙুল দেখিয়ে যত্রতত্র গড়ে উঠা এসব অবৈধ ইটভাটায় বসানো হয়েছে, কাঠ চিড়ানোর জন্য সমিল ও পোড়ানো হচ্ছে কাঠ,প্রতিটা ইটভাটায় কৃষি জমি ও ফসলীয় জমি থেকে কেটে নিচ্ছে মাটি, কৃষি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে ইট ভাটা এতে করে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্তের ঝুঁকির মুখে জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলি জমি।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মাদারীপুর ৫টি উপজেলায় ৯১টি ইটভাটা রয়েছে। যাঁর মধ্যে ১৫টি ইটভাটায় বৈধ। বাকি ৭৬টি ইটভাটা অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে সরকার পতনের পর বেশ কয়েকটি ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ইটভাটাগুলোর কোনো ছাড়পত্র নেই। আইন অমান্য করে ছাড়পত্র ছাড়াই এসব ভাটা গুলো চালাচ্ছে।এছাড়া,ইটভাটার লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় নবায়নের জন্য হাতেগোনা কয়েকটি আবেদন করেছেন।
ইটভাটা মালিকরা কোনো আইনি নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে। অনেকে ইটভাটার ভেতরে অবৈধ ভাবে স’মিল বসিয়ে কাঠ কেটে তা পোড়াচ্ছে। ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, বিলীন হচ্ছে নানা প্রজাতির গাছ। তাছাড়া কৃষি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। আবার রাতের আধারে নদ-নদীর পাড় থেকে কৃষি জমির মাটি কাটায় ভাঙন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে স্থানীয়রা। সরকারি অনুমোদন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে এসব ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসায় ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, গ্যাস ও ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। তাছাড়া এসব ইটভাটার বেশির ভাগই স্থাপন করা হচ্ছে ফসলি জমিতে। মাদারীপুর সদর উপজেলার পাচখোলা ইউনিয়নে রয়েছে ২৫ টির বেশি ইটভাটা।
পাচখোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, শুধুমাত্র আমাদের এই পাচখোলা ইউনিয়নের রয়েছে ২৫/৩০টির মতো ইটভাটা। আগে ৩৫ টি ছিল। এখন বেশ কয়েকটি বন্ধ হয়ে গেছে। শুধুমাত্র একটি ইউনিয়নে এতগুলো ইটভাটা কিভাবে থাকে, তা সত্যিই বোধগম্য নয়। এতে করে এই এলাকার বাসিন্দারা স্বাস্থ্য ঝুঁকি, পরিবেশ ও কৃষি জমি বিলুপ্তির পথে। এগুলোর ব্যাপারে সঠিক আইন প্রয়োগ করা দরকার।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, এবছরের অবৈধ ছাড়পত্র বিহীন ২টি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা করেছি। ছাড়পত্র বিহীন বাকি ইটভাটা গুলোতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের সাথে সমান্নয় করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয় সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎকারে- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা বলেন, আমরা এখন নির্বাচনীয় কাজ নিয়ে ব্যবস্ততার মধ্যে আছি।এসময় অবৈধ ইটভাটা বা অন্য কোনো কাজের দিক দেখার সময় না-ই। তারপর ও আমরা গত মাসে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ভাবে কাঠ পোড়ানোর দায়ে ২টি ইটভাটার মালিককে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা করেছি। আপনার আমাদেরকে যে সকল ইটভাটা অবৈধ ও কাঠ পোড়ানো হচ্ছে একটি তালিকা দেন, আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।